নামকরনের ইতিহাস : নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবার কারনে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনে সেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। রংপুর জেলা অপর একটি প্রচলিত ধারনা থেকে জানা যায় যে রংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগদত্তের রঙ্গমহল এর নামকরন থেকে এই রঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউ এই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদুর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি ছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর। গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণ মানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদুর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলা যায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণে রংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

রংপুর অঞ্চলকে তামাকের জন্য বিখ্যাত বলা হয়। এখানে উৎপাদিত তামাক দিয়ে সারা দেশের চাহিদা মেটানো হয়। রংপুরে প্রচুর পরিমাণ ধান-পাট-আলু উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজার তথা সারাদেশের বাজারে সমান হারে সমাদৃত।

রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সুপ্রাচীনকাল থেকে এ জেলা গৌরবময় ও বৈচিত্রপূর্ণ ইতিহাসের অধিকারী। এ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাগট, যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। বৃটিশ সরকারের অধীনে ১৭৬৯ খ্রিঃ রংপুর কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও ১৭৭২ খ্রিঃ পূর্ণাঙ্গরূপ ধারণ করে। প্রথম ইংরেজ কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান চালর্স পার্লিং। বৃটিশ রাজস্ব সংগ্রহ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাই ছিল কালেক্টরেটের লক্ষ্য। ১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ব্যারন কারমাইকেল বর্তমান কারমাইকেল কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৪৭ এর ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিফলিত হতে থাকে। ভাষা আন্দেলনের ক্ষেত্রে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। কারণ উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার সিদ্ধান্তকে এদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। ফলে শুরু হয় আন্দোলন। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছালাম, বরকত, রফিক, জব্বার- এদের বুকের তাজা রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়। রংপুরের জনগণও এ ভাষা আন্দোলনে মিছিল শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে উদ্দীপ্ত স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষ রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চল হতে লাঠি-সোটা, তীর ধনুক, বল্লম ইত্যাদি সহযোগে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে ২৮ মার্চ ১৯৭১। ক্যান্টনমেন্টের পাক হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর আক্রোশে অসংখ্য বিক্ষুব্ধ মানুষ এদিন শহীদ হন। বৃহত্তর রংপুর জেলা পাঁচটি মহকুমার সমন্বয়ে গঠিত ছিল (রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা)। ১৯৮৪ সালে এই মহকুমাগুলো জেলায় রুপান্তরিত হয়। রংপুর জেলা ভৌগলিক ক্ষেত্রে তার বৃহৎ ব্যপ্তি হারালেও বর্তমানে ৮টি উপজেলার বিস্তৃত এলাকা নিয়ে কালের অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। দেশের উত্তর জনপদের অন্যতম জেলা হিসেবে রংপুর অনেক গুণী খ্যাতনামা মানুষকে ধারণ করছে, ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি ও সংস্কৃতি চর্চায় রংপুর অনেক এগিয়ে আছে। কৃষিজ উৎপাদনে রংপুর দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান: রংপুর জেলার কেল্লাবন্দ নামক স্থানে বিসিক শিলপ নগরী গড়ে উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে যেমনঃ আর,এফ,এল লিঃ, মিল্ক ভিটা বাংলাদেশ,আরডি মিল্ক, বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ। এছাড়া হারাগাছ নামক স্থানে বিড়ি(সিগারেট) তৈরির একাধিক কারখানা। রংপুর শহরের আলম নগর নামক স্থানে আছে আর, কে ফ্যান কারখানা। বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর নামক স্থানে গড়ে উঠেছেঃ শ্যামপুর চিনিকল লিমিটেড, রংপুর ডিষ্টিলারিজ এন্ড কেমিক্যাল কোঃ লিঃ।

ভৌগোলিক সীমানা : রংপৃর জেলা ২৫৹০৩˝থেকে ২৯৹৩২˝ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত । মোট আয়তন ২৩০৮ বর্গ কিমি । আটটি উপজেলা, ইউনিয়ন ৩৮টি, ১৪৫৫টি মৌজা এবং ৩টি পৌরসভা নিয়ে রংপুর জেলা গঠিত।রংপুর জেলার উত্তরে লালমনিরহাট ও তিস্তা নদী, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলা, পূর্বে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এবং পশ্চিমে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা অবস্থিত।তিস্তা নদী উত্তর ও উত্তর পূর্ব সীমান্তকে লারমনির হাট এবং কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করেছে।
রংপুর জেলাকে বৃহত্তর বঙ্গপ্লাবন ভূমির অংশ মনে করা হয়। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গঠন দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। এ জেলার ভূগঠন অতীতে উত্তরাঞ্চল প্রবাহমান কযয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ভূকম্পনজনিত ভুমি উত্তোলনের সাথে জড়িত। তিস্তা নদীর আদি গতিপথ পরিবর্তন ছিল রংপুর জেলার ভূমি গঠনের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদী ১৭৮৭ সালের পূর্বে গঙ্গানদীর একটি উপনদী ছিল। তিস্তা সিকিম বা হিমালয়ে পরিচিত রাংগু ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার নিকট আত্রাই এর সাথে মিলিত হয়ে নিম্ন গঙ্গা নদীতে পতিত হতো। ১৮শ শতকে তিস্তা, আত্রাই নদীর পথ ধরে গঙ্গা ও বিছিন্ন কিছু খাল বিলের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র, উভয় কিছু নদীর সাথে ঋতু ভিত্তিক সংযোগ করত। অপর নদী ধরলা তিস্তা থেকে নিম্ন হিমালয় অঞ্চল বৃহত্তর রংপুর জেলার পূর্ব দিক দিয়ে (বর্তমান কুড়িগ্রাম) ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। ঘাঘট এ জেলার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ । ঘাঘট তিস্তার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়ে রংপুর জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে করতোয়া নদীতে পতিত হয়। আত্রাই নদী এ সময় করতোয়া ও গঙ্গার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত।

জেলার পটভূমি: রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সুপ্রাচীনকাল থেকে এই জেলা গৌরবময় ও বৈচিত্রপূর্ণ ইতিহাসের অধিকারী। এর প্রায় ৮০ শতাংশ তিস্তার প্লাবন ভূমি এবং ২ শতাংশ বরেন্দ্র ভূমির অন্তর্গত। এই অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী ভারতের পূর্বাংশ কামরূপ বা প্রাগজ্যোতিষ রাজ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যার অন্তর্গত ছিল বর্তমান রংপুর তথা রঙ্গঁপুর অঞ্চল। রাজা ভগদত্তের সময় (খ্রীঃ পূর্ব ১৫০০ অব্দ) রংপুর প্রাগজ্যোতিষের অন্তর্গত ছিল। আবার রাজা সমুদ্রগুপ্তের সময় (৩৪০ খ্রীঃ) কামরুপ কারদরাজ্যে পরিণত হয়। পরবর্তীতে আবার এই অঞ্চল কোচবিহারের কিছু অংশ হিসাবে পরিচালিত হতো। ৪র্থ শতাব্দীর মধ্য থেকে এ অঞ্চল সর্বপ্রথম বর্মারাজবংশের অন্তর্ভূক্ত হয়। কালক্রমে পালবংশ, সেনবংশ আরও অনেক রাজাধিরাজ এখানে রাজত্ব করেন।

আইন-ই-আকবরীর বিবরণ অনুযায়ী মোগল রংপুর ৩ ধরনের প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১৬৮৭ খ্রাষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটে মোগলদের একটি ফৌজদারী হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। একই সনে কাকিনা, কাজীরহাট, ফতেহপুর মোগলদের অধীনে আসে এবং ২৪ বছর পর ১৭১১ খ্রীঃ সমগ্র রংপুরে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর তিন দশকের শুরুতে মাহিগঞ্জে মোগল রংপুরের হেড কোয়ার্টার গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ১৭৬৫ সন পর্যন্ত মোগল ইতিহাসের আর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
১৭৬৫ সনে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দেওয়ানী লাভের পর রংপুর নতুন ব্যবস্থায় ইংরেজ শাসনাধীনে আসে। রংপুর অঞ্চলে সর্বপ্রথম ১৭৬৫ সনে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। ১৮৫৭ সনের সিপাহী বিপ্লবে বিদ্রোহী সিপাহীরা এ অঞ্চলে ইংরেজ শাসকদের মাঝে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৩০ সনে রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে কংগ্রেসের ডাকে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৬ খ্রীঃ অক্টোবরে এখানে অনুষ্ঠিত হয় উত্তর বঙ্গেঁর কৃষক নেতাদের বৈঠক এবং নভেম্বরে শুরু হয় তেভাগা আন্দোলন।

উপজেলাসমূহঃ

  1.  রংপুর সদর
  2.  গঙ্গাচড়া
  3.  বদরগঞ্জ
  4.  কাউনিয়া
  5.  মিঠাপুকুর
  6.  পীরগঞ্জ
  7.  পীরগাছা
  8.  তারাগঞ্জ

 প্রধান নদীঃ  তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া ও চিকলী।
পৌরসভাঃ রংপুর সদর, বদরগঞ্জ ও কাউনিয়া। 

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমিঃ দহিগঞ্জ শ্মশান,ঘাঘট নদীর পূর্বতীর, বালার দীঘি(ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন),ঘাঘট নদীর ব্রীজের নীচে, লাহিড়ীর হাট (বদরগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন),দমদমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা(মিঠাপুকুর উপজেলা), সাহেবগঞ্জ,নব্দীগঞ্জ, ঝাড়ুয়ার বিল(বদরগঞ্জ উপজেলা), দমদমা বাজার, ঝিনুক সিনেমা হলের পেছনে।  

গণকবরঃ দমদমা ব্রীজ, দমদমা বাজার(মিঠাপুকুর উপজেলা)আংরার ব্রীজ, মাদারগঞ্জ বাজার (পীরগঞ্জ উপজেলা)। ভাস্কর্যঃ অর্জন(ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন মোড়)।

এক নজরে জেলা
১।    উৎপত্তিঃ   ১৭৭২ খ্রিঃ।
২।    সীমানাঃ   উত্তরে নীলফামারী, দক্ষিনে গাইবান্ধা, পূর্বে কুড়িগ্রাম, পশ্চিমে দিনাজপুর জেলা।
৩।    পোস্ট কোডঃ  ৫৪০০
৪।    আয়তনঃ   ২৩৭০.৪৫ বর্গ কিঃ মিঃ
৫।    আবহাওয়াঃ   গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা- ৩২.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস, গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা- ১১.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত- ২১৯.৪৫ মিঃ মিঃ
৬।    প্রশাসনিক তথ্যঃ   উপজেলা ও থানা- ০৮টি (রংপুর সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ), পৌরসভা- ০৩টি, ইউনিয়ন- ৮৩টি।
৭।    জনসংখ্যাঃ   ৩৩,৫৬,৩০৯ জন (পুরুষ- ১৭,০০,৭০৫ ও মহিলা- ১৬,৫৫,৬০৪ জন)
৮।    উপজাতিঃ     উড়াও, পাহাড়ী, মুশহর, সাঁওতাল, পাহান, তুরি ইত্যাদি
৯।    শিক্ষা ব্যবস্থাঃ   বিশ্ববিদ্যালয়- ০১, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ- ০৩, কলেজ- ৫৯টি, স্কুল- ৫১০টি, মাদ্রাসা- ২৬৭টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি- ৭০২, বেসরকারি- ৫৯০টি।
১০।    শিক্ষার হারঃ   ৬৩.৮%
১১।    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ    মসজিদ- ৫৭১১, মন্দির- ৭৬০টি ও অন্যান্য উপাসনালয়
১২।    যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ    রেল লাইনের দৈর্ঘ্য- ৬২ কিঃ মিঃ, ন্যাশনাল হাইওয়ের দৈর্ঘ্য- ৮৪ কিঃ মিঃ
রিজিওনাল হাইওয়ে দৈর্ঘ্য- ২২ কিঃ মিঃ
১৩।    কৃষি ব্যবস্থাঃ  মোট জমির পরিমাণ- ২,৬,৭৮৪ হেঃ
মোট ফসলী জমির পরিমাণ- ৪,৬৮,২৫৯ হেঃ
অনাবাদী জমির পরিমাণ- ১,৭৮০ হেঃ
প্রধান ফসল- ধান, পাট, তামাক, আলু, আখ ও শাক-সবজি
১৪।    নদ-নদীঃ    তিস্তা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া
১৫।    স্বাস্থ্য ব্যবস্থাঃ   রংপুর মেডিকেল কলেজ- ৫৩০ শয্যা বিশিষ্ট, সদর হসপিটাল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট
১৬।    দর্শনীয় স্থানঃ   হযরত মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী (রহঃ) এর মাজার ও মসজিদ, তাজহাজ জমিদার বাড়ী বর্তমানে যাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, কারমাইকেল কলেজ ভবন, জেলা পরিষদ ভবন, ভিন্নজগৎ, লালদীঘির নয় গম্বুজ মসজিদ, পায়রাবন্দ জমিদার বাড়ী, পীরগাছা দেবী চৌধুরাণীর রাজবাড়ী, ইটাকুমারীর জমিদার শিবচন্দ্র রায় এর রাজবাড়ী, মাহিগঞ্জের কাজিটারী মসজিদ, রংপুর চিড়িয়াখানা, কাউনিয়ার আনন্দ মঠ, বেনারসী পলস্নী, নিসবেতগঞ্জ শতরঞ্জি শিল্পের অন্যান্য ভূমি।
১৭।    শিল্প সংক্রান্তঃ   ভারী শিল্পঃ শ্যামপুর সুগার মিলস, অলিভ ওয়েল মিল, আরকে ফ্যান, ডালডা মিল, সিগারেট কোঃ, আপেল সিরামিক্স, ডিস্টিলারীজ, কোল্ড স্টোরেজ, বিড়ি কারখানা, হার্ডবোর্ড মিল, সাবান কারখানা, পোলট্রি ফার্ম, গুটি ইউরিয়া কারখানা।
মাঝারী/ক্ষুদ্র শিল্পঃ মসকুইটো কয়েল কারখানা, আরএফএল, পিভিসি পাইপ প্রস্ত্তত কারখানা, খাদ্য সহায়ক শিল্প, বস্ত্র শিল্প, পাট ও পাটজাত শিল্প, ছাপাখানা, চামড়া শিল্প, বনজ, রাসায়নিক শিল্প, প্রকৌশল।
কুটির শিল্পঃ সিরামিক, প্রকৌশল, বস্ত্র সহায়ক, কেমিক্যাল, কাগজী ঠোঙ্গা, শতরঞ্জি কারখানা, ফলজ সহায়ক শিল্প, কারম্নপণ্য, তাঁত শিল্প।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে রংপুর জেলা প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশের একটি অন্যতম জেলা।এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই জেলায় ২৮২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭২২ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৯৩টি বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয় এবং ৩২০টি মাদ্রাসা। তারমধ্যে অনতম্য গুলো হলঃ
•    রংপুর জিলা স্কুল
•    রংপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
•    রংপুর ক্যাডেট কলেজ
•    ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ,রংপুর
•    পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ,রংপুর
•    কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজ,রংপুর
•    রংপুর সরকারী কলেজ
•    বেগম রোকেয়া সরকারী মহিলা কলেজ
•    কারমাইকেল কলেজ
•    পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউট, রংপুর
•    রংপুর মেডিকেল কলেজ
•    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসা  :  রংপুর বিভাগ এর মধ্যে রয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ।এটি একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ। অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে শিশু হাস্পাতাল,বক্ষ হাসপাতাল ও কলেরা হাস্পাতাল।বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে ক্রিস্টিয়ান মিশনারি হস্পিতাল,রংপুর ডেন্টাল কলেজ এবং কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

খেলাধুলা ও বিনোদন : খেলাধুলার ক্ষেত্রে রংপুর জেলার রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। এ জেলার দেশীয় ও আঞ্চলিক খেলাসমূহের মধ্যে হা-ডু-ডু (বাংলাদেশের জাতীয় খেলা), কাবাডি, দাঁড়িয়াবাধাঁ, নানা রঙ্গের ঘুড়ি উড়ানো, পাখি, গোল্লাছুট, এক্কাদোক্কা, বৌছুট, ডান্ডাগুলি (রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় চেংকু-পেন্টি), লাঠি খেলা, তরবারি খেলা, দধিকাঁদো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কেবল রংপুর বাংলাদেশে নয়, ভারতের কোন কোন জেলার গ্রামে-গঞ্জেও এসব খেলা সমানভাবে জনপ্রিয়।
 
    অতীতে দেশীয় প্রায় সব খেলাধুলাই ছিল সৌখিন প্রকৃতির। প্রচার ও চর্চার অভাবে দেশীয় এসব খেলা এখন বিলীন প্রায়। অন্যদিকে ব্যাপক প্রচার এবং নিয়মিত চর্চার কল্যাণে বিদেশী প্রায় সব খেলাই এখানে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
 
    খেলাধুলার ক্ষেত্রে রংপুরের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে ফুটবলের কথা। রংপুর তাজহাট রাজা বাহাদুরের পৃষ্ঠপোষকতায় উনিশ শতকের প্রথম দিকে এ জেলায় ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়। রংপুর ফুটবল অঙ্গনে অনেক খ্যাতিমান খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের মধ্যে যাদুকর আব্দুস সামাদ, মোনাগুহ, গোপাল রায়, কামাখ্যা দাস, ইসলাম, সুরেন দে, জীবন মুখার্জী, সান্টু, কাজী ছাত্তার, কাজী আনোয়ার, মুন্না প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
    ফুটবলের মত ক্রিকেটেও রয়েছে রংপুর জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য। রংপুর জেলায় ক্রিকেট খেলা বৃটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। চল্লিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর কালেক্টরেট ময়দানে ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হতো।
 
    জেলা ক্রীড়া সংস্থা, রংপুর ও জেলার অন্যান্য ক্রীড়া সংগঠনগুলো জেলার ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি রংপুর জেলায় ক্রীড়ার ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জেলা ক্রীড়া সংস্থা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি খেলার আয়োজন করেছে।
 

মুক্তিযুদ্ধ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। ১৯৪৭ এর ভারত- পাকিস্তান বিভক্তের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা ক্রমে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এই সংক্ষুব্ধ হওয়ার পর্যায়টি ভাষা আন্দেলনের ক্ষেত্রে প্রথম রুপ লাভ করে। কারণ উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার সিদ্ধান্তকে এদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। ফলে শুরু হয় বিক্ষোভ আন্দোলন। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সৃষ্টি হয় রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। রংপুরের জনগণও এই ভাষা আন্দোলনে মিছিল শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতেকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ বৈষম্য এসব কিছুর বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। এক্ষেত্রে রংপুর পিছিয়ে থাকেনি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনের পর পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ফলে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’। এরপর ২৫ মার্চ এর ভয়াল কাল রাত্রির পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। রংপুরও এই মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠে।
 
স্বাধীনতাকামী রংপুরের মানুষ ৩ মার্চ প্রথম যুদ্ধ আরম্ভ করে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ রংপুরের শংকু সমজদার। ৩ মার্চে রংপুরে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং এদের প্রাণদানের মাধ্যমে শুরু হয় রংপুরের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের সকল শ্রেণীর মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। ৩ মার্চ থেকে ৫ মার্চ রংপুরে কারফিউ চলে। এ অঞ্চলের মানুষ সশস্ত্র যুদ্ধ আরম্ভ করে ২৪ মার্চ। ২৮ মার্চ রোববার রংপুরের মানুষ জেগে উঠেছিল এক নবচেতনায়। স্বাধীনতা চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষ রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চল হতে লাঠিসোটা, তীর ধনুক, বল্লম ইত্যাদি সহযোগে রংপুর ক্যান্টমেন্ট আক্রমণ করে বেলা ৩.০০ টার দিকে। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ রংপুরের মানুষ বিভিন্ন অঞ্চল হতে লাঠিশোঠা, তীর ধনুক, বল্লম,দা,কুড়াল ইত্যাদি সহযোগে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমন করে বেলা ৩.০০ ঘটিকার দিকে। এতে ক্যান্টমেন্টের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈন্যরা এ সমস্ত বিক্ষুব্ধ জনতার উপর ঝাপিয়ে পরে এবং অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। রংপুরের অগনিত মানুষ প্রাণ দিয়ে সৃষ্টি করে এক অবিস্বরণীয় ঘটনা। ৩ এপ্রিল মধ্যরাতে রংপুরের প্রথম গণহত্যা ঘটে দখিগঞ্জ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। এরপর ক্রমান্বয়ে বলারখাইল গণহত্যা, ঝাড়ুদার বিল ও পদ্মপুকুরের গণহত্যা, জয়রাম আনোয়ার মৌজার গণহত্যা, সাহেবগঞ্জের গণহত্যা, লাহিড়ীরহাটের গণহত্যা, ঘাঘটপাড়ের গণহত্যা, নিসবেতগঞ্জ গণহত্যা, দমদমা ব্রীজ গণহত্যা, জাফরগঞ্জ গণহত্যা প্রভৃতি নৃশংস হত্যাকান্ডে রংপুরবাসী তাদের প্রিয়জনকে হারায়। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলকসা অনুযায়ী ৩০শে এপ্রিল ১৯৭১ রংপুর কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থারত (অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন, অধ্যাপক রাম কৃষ্ণ অধিকারী ও অধ্যাপক সুনীল চক্রবর্তী) অধ্যাপকগণকে রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যাকরে দমদমা ব্রিজের পার্শ্বে এক বাঁশঝাড়ে গণ কবর দেয়। এছাড়াও অধ্যাপক কালাচাদ রায় ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় এবং এই ধারাবাহিকতায় হত্যা করা হয় অধ্যাপক আব্দুর রহমান ও অধ্যাপক সোলায়মানকে। এ সময় হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের কেন্দ্রস্থল ছিল রংপুর টাউন হল।
 
সময়ের সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র রংপুরে। ১২ ডিসেমবর রংপুর সেনানিবাস ছাড়া সমগ্র রংপুর মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ১৩ ডিসেমবর গংগাচড়া থানায় সর্বপ্রথম ২১২ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে। ১৫ ডিসেমবর তিস্তা ব্রীজে হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ১৬ ডিসেমবরও রংপুর শহর ও শহরতলীতে লড়াই চলতে থাকে। ১৭ ডিসেমবর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল। নয়মাস অবরুদ্ধ মানুষ খুঁজে পায় মুক্তির আস্বাদন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অকুতোভয় দেশপ্রেম আর অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রংপুরে উদিত হয় স্বাধীনতার রক্তিম লাল সূর্য।
 
ভাষা ও সংষ্কৃতি : রংপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাহিত্যকর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি সুপ্রাচীন ও বিভাসিত।প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন এই রংপুর। বলা যায় প্রকৃতির রহস্য ময়তায় নান্দনিক সৌন্দর্যে প্রকৃতির আদরণীয় হিল্লোলে ও প্রাণময়তায়ভরপুর রংপুর। অর্থাৎ

‘‘রঙ্গঁরসে ভরপুর এই রঙ্গঁপুর’’।

এই রঙ্গঁরস শিক্ষা-সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য বিশেষ করে লোকসংস্কৃতি মিলিয়ে অনবদ্য। রঙ্গঁপুরের পরিবর্তিত রূপ রংপুর। বাংলাদেশেরপ্রাচীনতম অংশের নাম বরেন্দ্র বা রারেন্দ্রী। রংপুর (রঙ্গঁপুর) সমতলবরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত। পরবর্তী সময়ে যে অঞ্চল গৌড় অঞ্চল বলে পরিচিতিলাভ করে। প্রাচীনইতিহাসের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করলে দেখা যায়, রংপুর (রঙ্গঁপুর) এর ভূমিসম্প্রসারিত ছিল গৌহাটি কেন্দ্রিক রাজ্য প্রাগজ্যোতিষপুরের অন্তর্গত। রংপুরেররঙ্গঁপুর নামটির নামকরণ এখনও চুড়ান্তভাবে বিতর্করহিত হয়নি। কেউ কেউ মনেকরেন মহাভারতের সময়ে প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা ভগদত্তের রংমহল ছিল রংপুরেরএবং সেই রংমহল হতে নাম হয়েছে রঙ্গঁপুর। কারো কারো মতে ভগদত্তের কন্যাপায়রাবতীর নামানুসারে নারীজাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মভুমিপায়রাবন্দের নামকরণ হয়েছে।  কেউ কেউ মনে করেন রংপুরের বস্ত্ররঞ্জনী কারখানা ( Dying Industry) ছিল। পাট নির্মিত বস্ত্রে বা চটে রং করা হতো বলে রংপুরকে রংরেজপুর বলা হতো এবং তার পরিবর্তনে হয়েছে রঙ্গঁপুর (রংপুর)।  তবেঅনেক ঐতিহাসিক মনে করেন রংপুরের নামকরণের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার উদ্দিনমোহাম্মদ বখতিয়ার খলজীর অবদান গ্রহণযোগ্য। রঙ্গঁপুর শব্দটির ফার্সী শব্দ আরতাই সঙ্গত কারণে বখতিয়ার শাসন আমলে রংপুরের নাম রঙ্গঁপুর হয়েছে।

রংপুর কালেক্টর ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। ১৭৯৩ খ্রিঃ রংপুর কালেক্টর হতে বিচার বিভাগ আলাদাহলে একজন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়।
 

রংপুরের আঞ্চলিক ভাষা :  একটি উদাহারন – আমি ঢাকা যেতে চাই- ‘মুই ঢাকাত গেনু হয়’

বাংলা ভাষার যেমন আছে পরিশীলিত রূপ তেমনি অঞ্চল ভিত্তিক গ্রামীণ জনপদে প্রচলিত রয়েছে আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা। ভৌগোলিককারণে হোক বা শারীরিক গঠনের জন্য হোক রংপুরের শিক্ষিতজনেরা বাংলাদেশেরঅনেক জেলার অপেক্ষা পরিশীলিত ভাষায় কথা বলতে পারেন। তাদের উচ্চারণে কোনবিকৃতি নেই, নেই অস্পষ্টতা। তারা অনায়াসে আঞ্চলিকতা সম্পন্ন ভাষা বাউচ্চারণ পরিহার করতে পারেন। ম্যাকসমূলার বলেছেন ‘‘The real and natural life of language is in its dialects’’. ভাষারপ্রকৃত ও স্বাভাবিক জীবন তার উপভাষাগুলিতে। উল্লেখ্য বাংলাভাষাও তারব্যতিক্রম নয়। রংপুরেও পরিশীলিত ও মার্জিত ভাষার সমান্তরাল রংপুরেরপ্রামাঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে।  আঞ্চলিকভাষা, যখন এ গ্রামাঞ্চলের জনপদে উদ্ভব হয়েছে নিঃসন্দেহে সে সময় হতেগ্রামীণ জনপদ আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে আসছে। এ ভাষার উচ্চারণগত সহজবোধ্যতা, সাবলীলতা ও শ্রুতিমাধুর্য অসামান্য। আর এ আঞ্চলিক ভাষায় রচিত হয়েছেসাহিত্য-সঙ্গীত, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, গীত ইত্যাদি যা মানুষের আনন্দেরউপকরণ। রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্মের মাত্র কটির নামকরা হলো, ষোড়শ শতকের কবি মুহম্মদ কালার নেজাম পাগলার কেচ্ছা , অষ্টাদশশতকের কবি হেয়াত মামুদের রচনায় রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার অনেক শব্দ রয়েছে।বেগম রোকেয়ার রচনায় রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার শব্দাবলীও আছে । পরবর্তী সময়েনাট্যকার তুলসী লাহিড়ীর ছেঁড়াতার, সৈয়দ শামসুল হক এর নুরলদীনের সারাজীবন, নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদেরহামার অমপুর, আবুলকাশেমের হামার দ্যাশ হারাগাছ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মরা মানুষের মিছিল, আনিসুলহক এর নাল পিরান, মকসুদুল হক এর শঙ্খামারীর ঘাট, সাখাওয়াত হোসেনের বাহেনিধূয়া পাথার, নাসিমুজ্জমান পান্নার নাকফুল এবং মতিউর রহমান বসনীয়া রংপুরেরভাষার অভিধান ও অনেক কবিতা লিখেছেন এ ভাষায় । তাছাড়াও অনেকে রংপুরের ভাষাব্যবহার করেছেন রচনায় এবং মুহম্মদআলীম উদ্দিন তাঁর রংপুর সংবর্তিকা গ্রন্থেরংপুরের ভাষা শিরোনামে প্রবন্ধ রচনা করেছেন । রংপুরের ভাষা উদীচ্য বা বরেন্দ্র উপভাষার গোত্রভূক্ত ।

এ ভাষার বৈশিষ্ট্যঃ

১. আনুনাসিক বর্ণ রক্ষিত               

২)শ্বাসাঘাতের নির্দিষ্ট সহান নেই    

৩)শব্দের আদিকে ‘ র ’ এর আগয় লোপ,  যথাঃ রস= অস, রামবাবু= আমবাবু, রংপুর= অমপুর, রক্ত = অক্ত,

                  ‘‘ আমবাবুর রামবাগানে অনেক রাম পেকেছে’’।

4) অধিকরণ কারকে‘‘ ত ’’ বিভক্তির প্রয়োগ । ‘‘ বাবা বাড়িত নাই’’।

৫)অপিনিহিতর ব্যবহারঃ অদ্য>অহিজ, কাল্য>কাইল

৬) শব্দের মধ্যবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণ লোপ ঃ কহিল>কইল,    ৭)‘‘ ছ’’ এর ব্যবহার ‘ চ ’ রূপেঃ মাছ>মাচ

৮) শব্দের মধ্যবর্তী সহানে অতিরিক্ত স্বরবর্ণের ব্যবহারযেমনঃ গেলে>গেইলে, বোন>বইন,

৯) ‘ল’ এর সহলে ‘ন’ এর আগম ঃ লাট>নাট, লাগে>নাগে

 
কতিপয় শব্দঃ

অকে, অমপুর, অক্ত, আঙা, আন্দন, উদিনকা, আইগন্যা, ক্যাংকা, ফ্যাদলা, এইংকা, উন্দাও, বাইগন, বাহে, সুন্দরী, তাংকু, দলান, ঢ্যানা, বাড়ুন, গাবরু, কাপাট, কইনা, এইকনা, ছাওয়া ইত্যাদি ।

 রংপুরের সাহিত্যকর্মঃ অনেক বাংলা সাহিত্যের গবেষক ওঐতিহাসিকবলেছেন যে বাংলা সাহিত্যের আদিনীড় রংপুর । রংপুরের ভাষার যেমন প্রাচীনত্ব আছে তেমনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনত্বে্র রংপুরের অংশীদারিত্ব আছে । বাংলাভাষা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ অর্থাৎ প্রাচীন বাংলায় রচিত ৫১টি পদ অখন্ডিত ৪৭ পদই বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন, রচয়িতা ২৪ জন কবি । ডঃ মুহষমদশহীদুল্লাহর মতে যা রচিত হয়েছে ৭ম শতাব্দী হতে ১০ শতাব্দীর মধ্যে । আর এই পান্ডলিপিটি ১৯০৭ সালে আবিস্কৃত হয়েছে নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার হতে ।আবিস্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ।

অনেকেমনে করেন চর্যাপদের কবিদের অনেকের পদচারনা হয়তো ঘটেছিল রংপুরে । ফলেচর্যাপদের ভাষা’. অনেক রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার শব্দও বিশেষতবদেখতে পাওয়া যায় যেমন. টলিত মোর ঘর/নাহি পরবেসী হাড়িত ভাত নাই নিতি আবেসী‘তে’ বিভক্তির স্থলে ‘ত’ বিভক্তির প্রয়োগ রংপুরের ভাষার বৈশিষ্ট্য। তেমনি নঞকঅব্যয়ের ব্যবহার ব্যবহার ক্রিয়াপদের আগে, যেমন, গাছের তেস্তুল কুম্ভীরে নক্ষত্র, রংপুরের উদাহরণ।

না যাও, না খাও।

শব্দ মোর, তোর, সুতি, পোহাই, ঘিন, খাল, ইত্যাদি শব্দ রংপুরেও ব্যবহৃত হয়।

 রংপুর হতে স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন আবিষ্কার করেছেন নাথ গীতিকা, মধ্যযুগের অনেক বিশিষ্ট্য কবি কাব্য রচনা করেছেন রংপুরে। তাঁরা হলেন কমল লোচন, হরিশ চন্দ্র বসু, হেয়াত মামুদ, শাকের খাদম, মুহম্মদ কালা, দ্বিজহরি, ধুরহানুল্লাহ, শরিয়তুল্লাহ।

 আধুনিকযুগের অনেক কবি সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন আরতারা হলেন, পন্ডিত যাদবেশ্বর, তর্করত্ন, জামাল উদ্দিন, রামনারায়ণ তর্করত্নযিনি বাংলা মৌলিক নাটক ‘কুলিনকুল সর্বস্ব’ রচনা করেন এবং কুন্ডির জমিদারপ্রদত্ত ৫০/- টাকা পুরস্কার লাভ করেন। হরগোপাল রায়, নারী জাগরণের অগ্রদূতবেগম রোকেয়া, অতুল গুপ্ত, অতুল প্রসাদ সেন, শেখ ফজলুল করিম, খেরাজ আলী, রবীন্দ্র নাথ মৈত্র, তুলসী লাহিড়ী, নুরুল ইসলাম কাব্য বিনোদ, সৈয়দ শামসুলহক, আশুতোষ দত্ত, মোতাহার হোসেন সুফী, মতিউর রহমান বসনীয়া, মহফিল হক, মোনাজাত উদ্দীন, মুহম্মদ আলীম উদ্দীন, মঞ্জু সরকার, আনিসুল হক, আব্দুল হাইসিকদার, সৈকত আসগার সহ আরো অনেক সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে অবদান রেখেছেনএবং এখনও অনেকে সাহিত্যকর্মে সচল আছেন।

লোক সাহিত্য ও সংস্কৃতি: লোকসাহিত্য ও লোক সংস্কৃতিতে রংপুরের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আর এসবকর্মকান্ড সম্পাদিত হয়েছে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায়। আঞ্চলিকতার দিক দিয়েভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালীর বিপরীত প্রান্তের লোকসঙ্গীত। ভাওয়াইয়া রংপুরেরলোকসঙ্গীত ধারায় সর্বাপেক্ষা উজ্জবল ও সমৃদ্ধ শাখা। ভাওয়াইয়া সম্রাট আববাসউদ্দীন ১৯৫৪ সালে ভাওয়াইয়াকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপিত করেন। ভাওয়াইয়ালোকসঙ্গীতের ধারায় এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন পেশার মানুষেরসুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ-বেদনাকে আশ্রয় করে লোকের মুখেমুখে রচিত এবং বিপুল আবেদনময় সুরে বাঁশি ও দোতরার মতো বাদ্যযন্ত্র যোগেগীত হয়ে আসছে।

আঞ্চলিকনামানুসারে ভাওয়াইয়া ৫টি ধারায় বিভক্ত, ‘ভাব’ ‘ভাওয়া’, ‘বাওয়া’, ‘বাউদিয়া’ প্রভৃতি শব্দ হতে ভাওয়াইয়া শব্দের উৎপত্তি বলে গবেষকরা মতামত ব্যক্তকরেছেন। উল্লেখ্যযোগ্য জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া-

*     ওকি গাড়িয়াল ভাই

*     কি ও কাজল ভোমরা

*     তোরসা নদীর ধারে ধারে

*     নাইওর ছাড়িয়া যেও মোর বন্ধু

*     নদী না যাই ওরে বৈদ

*     ফাঁন্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে।

 রংপুরের মেয়েলী গীত/গান:  রংপুরেরলোক সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের ধারায় মেয়েলী গীত- বিয়ের গীত একটি উল্লেখযোগ্য ।রংপুরের মেয়েলী গীত মেয়েলী আচার অনুষ্ঠানের অনেক বিষয় নিয়ে রচিত ও গীত।যেমন বিয়ে, সাধভক্ষন, অন্নপ্রাসন, নবজাতকের ক্ষৌ্র কাজসহ বিয়ের বিভিন্নপর্বকে ঘিরে এই গীতগুলো রচিত এবং নৃত্যযোগে আনন্দমুখরতার মধ্যদিয়ে গীত হয়েআসছে যুগ যুগ ধরে। রংপুরেরলোকসঙ্গীতের ধারায় আরো আছে হুদমার গান, জগেরগান, যোগীর গান, গোয়ালীর গান, ক্ষ্যাপাগান, জারীগান, মালশা গান, পালাগান, বা কাহিনীগান লোকসঙ্গীত রংপুরেরউল্লেখযোগ্য সঙ্গীত ধারা। এ ধারায় রয়েছে অসংখ্য পালাগান। যেমন, নসিমনসুন্দরীর পালা, গুনাইবিবি, অমমূলা কন্যা, নেকোবিবি, কলিরাজা, চিনুবিনু, আরোঅনেক। রংপুরেরলোকসঙ্গীতের ধারায় আছে, রংপুরের ভাষায় ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন, ধাঁধা (শিল্কা)এই সঙ্গে আছে লোক বিশ্বাস রংপুরের কারু শিল্প-চারুশিল্প প্রশংসিত অবস্থায়ছিল, আর এগুলো হলোঃ শতরঞ্চি, পাটশিল্প, রেশম, তাঁত, মৃতশিল্প, নকশীকাথা, বাঁশশিল্প, কাঠশিল্প, কাসা-পিতল, লোহা শিল্প, ঢেঁকি শিল্প ইত্যাদি।

পর্যটন : রংপুর জেলায় যা কিছু বিখ্যাত , উল্লেযোগ্য স্থান, দর্শনীয় স্থান , হেরিটেজ

বখতিয়ারপুর গ্রাম :

লোহানীপাড়া বা চাপড়াকোট বিহার :

রাজা নিলাম্বরের জলমহাল বেস্টিত দুর্গ :

নুরউদ্দিন বাকের মোহাম্মদ জঙ্গ বাহাদুর :

বাগদুয়ার মন্দির :

উদয়পুর বাগদুয়ার :

আফানুললাহ মসজিদ :

বখতিয়ারী মসজিদ :

বড়বিল কলি আমিন মসজিদ :

চন্ডীপুর মসজিদ :

ফুলচৌকি মসজিদ :

হাজীরহাট শিয়া মসজিদ :

হাতিবান্ধা মসজিদ  :

মিঠাপুকুর মসজিদ :

খালাসপীর মসজিদ :

জিয়ৎপুকুর মসজিদ ও মাজার শরীফ :

কেললাবন্দ মসজিদ :

কেরামতিয়া মসজিদ :

খাসবাগ দুর্গ মসজিদ :

লালবাগ শাহী মসজিদ  :

লালদিঘি মসজিদ  :

মানাসপাড়া মসজিদ :

মাহীগঞ্জ মসজিদ :

মহীপুর মসজিদ :

মোমিনপুর মসজিদ :

তনকা মসজিদ :

ভাংনী মসজিদ :

ব্রাম্ন্রমন্দির :

ডিমলা কালীমন্দির :

ডিমলা জমিদারবাড়ির কালীমন্দির :

ফাঁসিতলা(হনুমানতলা) :

রামেশ্বর শিবমন্দির :

ত্রিবিগ্রহ মন্দির :

অজিতকুমারের জমিদারবাড়ি :

ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি :

দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়ি :

 জয় দুর্গা) দেবী চৌধুরানী) :

,পীরগাছা জমিদারবাড়ি :

বেগম রোকেয়া :

বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র :

বেগম রোকেয়া ফোরাম :

তাজহাট জমিদারবাড়ি :

টেপা পরগনার জমিদার বাড়ি :

দখিগঞ্জ বধ্যভূমি :

নব্দিগঞ্জ বধ্যভূমি :

বালারখাইল গনকবর লাহিড়ীরহাট বধ্যভূমি :

রক্ত গৌরব (নিশবেতগঞ্জ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ) :

স্নারকস্তম্ভ অর্জন :

ওয়ালীদাদ মাহমুদ এর সমাধি :

ঘাঘট ব্রীজের বধ্যভূমি :

শ্যামাসুন্দরী খাল :

বড় দরগাহ : শাহ ইসমাইল গাজী (রঃ) :

রংপুর পৌরসভা ভবন :

রংপুর জিলা স্কুল :

জেলা পরিষদ ভবন,রংপুর :

শতরঞ্জি শিল্প :

বেনারসী পললী :

শাশ্বত বাংলা(মুক্তিযুদ্ধা জাদুঘর:

রংপুর চিড়িয়াখানা :

কবি হেয়াত মাহমুদ :

মৌলভী খেরাজ আলী :

রংপুর সেনানিবাস :

নীলকুঠি :

নীলগাছ :

সরকারি কারমাইকেল কলেজ :

ভিন্নজগত :

”মুক্ত বিহঙ্গ”- ভাস্কর্য :

এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে  মতামত দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। {jcomments on}

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।