‘‘রঙ্গপুর’’ নামের উৎপত্তি : রংপুর সদর উপজেলা ঐহিত্যবাহী একটি প্রাচীন শহর যা ১৭৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রংপুর সদর উপজেলা শহর পূর্বে ‘‘রঙ্গপুর’’ নামে খ্যাত ছিল।রঙ্গপুর অর্থ যে জনপদের জনগণ কৌতুক প্রিয়। যদিও ঐতিহাসিকগণ ‘‘রঙ্গপুর’’ নামের উৎপত্তি সম্প‍‌র্কে নিশ্চিত নন তবে প্রচলিত মতে হচ্ছেরাজা বাঘাদত্ত ‘ঘাঘট’ নদীর তীরে রঙ্গমহল তৈরী করেন এবং এই রঙ্গমহল থেকে রংপুর নামের উৎপত্তি।রংপুর সদর ১৩’শ শতকে মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে রংপুর অঞ্চলে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মহান সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ ১৬৮৫ সালে রংপুর'কে সম্রাজ্য ভূক্ত করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীরআমলে শহরের পুরাতন অংশ ‘‘মাহিগঞ্জ’’ এই অঞ্চলের প্রধান বানিজ্য কেন্দ্রছিল। মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মস্থানহিসেবে রংপুর সুপরিচিত। প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় রংপুরকালেক্টরেটে দেওয়ান হিসাবে ১৮০৯ – ১৮১৪ পর্যন্ত কাজ করেন।রংপুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে অগ্রবর্তী এবং রংপুরের স্থানীয় ভাষাও আঞ্চলিক সংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

রংপুর নামকরণের পেছনে বিভিন্ন গবেষক বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। রংপুর বা ‘রঙ-পুর’ শব্দটি ফারসি অর্থে ‘রঙে পূর্ণ’। মতান্তরে সংস্কৃত অর্থে পুর মানে শহর। মহাভারতের বিবরণ অনুসারে প্রাগজ্যোতিষ অধিপতি রাজা ভগদত্তের উদ্যান বা রঙ-মহল অবস্থানের জায়গাটিই রঙ্গপুর নামে অভিহিত ছিল। উক্ত বিবরণ অনুযায়ী রাজা ভগদত্তের রঙ মহলের নামানুসারে রঙ্গপুর বা রংপুরের নামকরণ করা হয়েছে বলে অনেকের অভিমত। তারিখ-ই-ফেরিশ থেকে জানা যায়, ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে রংপুর প্রতিষ্ঠিত হয়।সুনির্দিষ্টভাবে বলা না গেলে অন্তত আড়াই হাজার বছরের সভ্যতা, সংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল।

এই অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী।হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী ভারতের পূর্বাংশ কামরূপ বা প্রাগজ্যোতিষ রাজ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যার অন্তর্গত ছিল বর্তমান রংপুর তথা রঙ্গঁপুর অঞ্চল। রাজা ভগদত্তের সময় (খ্রীঃ পূর্ব ১৫০০ অব্দ) রংপুর প্রাগজ্যোতিষের অন্তর্গত ছিল। আবার রাজা সমুদ্রগুপ্তের সময় (৩৪০ খ্রীঃ) কামরুপ কারদরাজ্যে পরিণত হয়। পরবর্তীতে আবার এই অঞ্চল কোচবিহারের কিছু অংশ হিসাবে পরিচালিত হতো। ৪র্থ শতাব্দীর মধ্য থেকে এ অঞ্চল সর্বপ্রথম বর্মারাজবংশের অন্তর্ভূক্ত হয়। কালক্রমে পালবংশ, সেনবংশ আরও অনেক রাজাধিরাজ এখানে রাজত্ব করেন।

আইন-ই-আকবরীর বিবরণ অনুযায়ী মোগল রংপুর ৩ ধরনের প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১৬৮৭ খ্রাষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটে মোগলদের একটি ফৌজদারী হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। একই সনে কাকিনা, কাজীরহাট, ফতেহপুর মোগলদের অধীনে আসে এবং ২৪ বছর পর ১৭১১ খ্রীঃ সমগ্র রংপুরে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে।অষ্টাদশ শতাব্দীর তিন দশকের শুরুতে মাহিগঞ্জে মোগল রংপুরের হেড কোয়ার্টার গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ১৭৬৫ সন পর্যন্ত মোগল ইতিহাসের আর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি।

১৭৬৫ সনে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দেওয়ানী লাভের পর রংপুর নতুন ব্যবস্থায় ইংরেজ শাসনাধীনে আসে। রংপুর অঞ্চলে সর্বপ্রথম ১৭৬৫ সনে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। ১৮৫৭ সনের সিপাহী বিপ্লবে বিদ্রোহী সিপাহীরা এ অঞ্চলে ইংরেজ শাসকদের মাঝে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৩০ সনে রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে কংগ্রেসের ডাকে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৬ খ্রীঃ অক্টোবরে এখানে অনুষ্ঠিত হয় উত্তর বঙ্গেঁর কৃষক নেতাদের বৈঠক এবং নভেম্বরে শুরু হয় তেভাগা আন্দোলন।

উপজেলা পটভূমি : রংপুর সদর উপজেলা ঐহিত্যবাহী একটি প্রাচীন শহর যা ১৭৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত। রংপুর সদর উপজেলা শহর পূর্বে ‘‘রঙ্গপুর’’ নামে খ্যাত ছিল। রঙ্গপুর অর্থ যে জনপদের জনগণ কৌতুক প্রিয়। যদিও ঐতিহাসিকগণ ‘‘রঙ্গপুর’’ নামের উৎপত্তি সম্প‍‌র্কে নিশ্চিত নন তবে প্রচলিত মতে হচ্ছে রাজা বাঘাদত্ত ‘ঘাঘট’ নদীর তীরে রঙ্গমহল তৈরী করেন এবং এই রঙ্গমহল থেকে রংপুর নামের উৎপত্তি। ১৩’শ শতকে মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে রংপুর অঞ্চলে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মহান সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ ১৬৮৫ সালে রংপুর'কে সম্রাজ্য ভূক্ত করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে শহরের পুরাতন অংশ ‘‘মাহিগঞ্জ’’ এই অঞ্চলের প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র ছিল। মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান হিসেবে রংপুর সুপরিচিত। প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় রংপুর কালেক্টরেটে দেওয়ান হিসাবে ১৮০৯ – ১৮১৪ পর্যন্ত কাজ করেন। রংপুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে অগ্রবর্তী এবং রংপুরের স্থানীয় ভাষাও আঞ্চলিক সংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান : আয়তন ৩৩.৩০ বর্গ কিঃ মিঃ, মোট জনসংখ্যাঃ ৬০০২৪০ জন (২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী), পূর্বে কাউনিয়া এবং পীরগাছা উপজেলা, পশ্চিমে- তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা, উত্তরে- গংগাচড়া, দক্ষিণে  মিঠাপুকুর উপজেলা।

প্রশাসনঃ রংপুর সদর থানা সৃষ্টি হয় ১৮৭৭ সালে। পৌরসভা ১, ওয়ার্ড ১৫, ইউনিয়ন ১২, মৌজা ২৭০, গ্রাম ৩১১।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমিঃ দহিগঞ্জ শ্মশান, বালার ঘাট, ঘাঘট নদীর ব্রীজের পাড় ও লাহিড়ীর হাট।

গনকবরঃ নব্দীগঞ্জ গনকবর। ভস্কর্যঃ ‘অর্জন’ (ক্যাডেট কলেজের নিকটে)।

এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে  মতামত দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। {jcomments on}

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।