রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা

সাধারন সম্পাদকের  প্রতিবেদন

৩০ আগষ্ট, শুক্রবার ২০১৩

মাননীয় সভাপতি, কার্র্য  নির্বাহী কমিটি’র নেতৃবৃন্দ  ও প্রিয় সদস্য ভাইবোনেরা,
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক  অভিনন্দন। রাজধানীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিট চত্বরে মাত্র কয়েকজন সংবাদকর্মীর হাতে রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা- নামের যে সংগঠনটি ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিলো আজ তা কয়েক শ’ সক্রিয় সদস্যের জাতীয় সংগঠন। আমরাও যে পারি, সে প্রমাণ এবার সত্যিই হলো। অভিবাদন আপনাদের যারা এই কঠিন কাজটি অত্যন্ত সফলতার সাথে করেছেন। রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ঢাকার এই শক্ত ভিত গড়েছেন।

রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ঢাকা আসলে কি ধরনের সংগঠন এ প্রশ্ন অনেকেই গেলো কয়েক বছরে আমাকে করেছেন। যথাসাধ্য তার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। আজ বড় পরিসরেও তার ছোট্ট একটি ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন মনে করছি। রংপুর বিভাগের ৮ জেলা যেমন পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা থেকে আমরা যারা রাজধানীতে এসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করছি তাদের সংগঠিত করাই হলো আমাদের মুল লক্ষ্য। রাজধানীতে সাংবাদিকদের অনেক পেশাজীবি সংগঠন আছে। আছে ইউনিয়ন, ইউনিট কিংবা আলাদা আলাদা সংস্থা, গ্রুপ। আমরা এ থেকে ভিন্নধর্মী হতে চেয়েছি। রাজনৈতিক কোন দলাদলির মধ্যে না গিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি সার্র্বজনীন, সৌহার্র্দপুর্র্ন অবস্থানের জায়গা হিসেবেই আমরা এ সংগঠনকে রেখেছি।থেকে এলাকার উন্নয়নে রাজধানীতে সোচ্চার অবস্থান রাখাই আমাদের মুল লক্ষ্য। এছাড়া রংপুর বিভাগের ঢাকায় অবস্থানকারী এই সংবাদকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি বাড়ানো, সম্পর্র্ক উন্নয়ন, বিপদ আপদে পাশে থাকার জন্য বছরে দু একটি মিলনমেলা, বনভোজন, বা অন্য ধরনের আয়োজনও আমরা রেখেছি। সাংবাদিকতা কিংবা এ সংশ্লিষ্ট পেশার মান উন্নয়নে ঢাকা রিপোটার্র্স ইউনিট, জাতীয় প্রেসক্লাব, পিআইডিসহ সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই বড় পরিসরে কাজ করছে।তাই ওইদিকে আমরা গেলো কয়েক বছরে খুব একটা মনেযোগ দেইনি। তবে এখন তার চিন্তা ভাবনা করার সময় এসেছে। আমরা নতুন পরিকল্পনারে উদ্যোগও নিয়েছি।

এক সংকটময় মুহুর্তে সংগঠনের এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃবৃন্দ আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার  অনুরোধ করেন। আমি তাদের  অনুরোধ রেখেছি। তখন এর কার্র্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হতো ৪/৫ মাস পর পর।  ঢাকা রিপোটার্র্স ইউনিটির  বাগান কিংবা দৈনিক দেশবাংলা অফিসে। আস্তে আস্তে পরিসর বাড়ে। বাড়ে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহন। এখন কোন সভা ডাকলেই উপস্থিতি ২০/৩০ জন ছাড়িয়ে যায়।

কর্র্মসূচি:
শুরু থেকে আমাদের সংগঠনের কর্র্মসূচি ছিলো এলাকা ভিত্তিক উন্নয়নে  জাতীয়ভাবে দাবি তোলা এবং  এর স্বপক্ষে শান্তিপুর্র্ণ  আন্দোলন করা।তা আমরা করেছি। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের দাবি, রংপুর বিভাগের উন্নয়নে আলাদা বাজেট নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৪টি মানববন্ধন করা হয়েছে। আলোচিত সাংবাদিক সাগর রুনি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আমরাই প্রথম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেই। মেহেরুন রুনী আমাদের সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তাদের হত্যাকারীরা যেই হোক তার কঠোর শাস্তির পক্ষে এখনো অনঢ় আমাদের অবস্থান। আমরা এ আন্দোলন চালিয়েই যাবো। এছাড়া সাংবাদিকদের স্বার্র্থ সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মসূচীতেই আমাদের অংশগ্রহন ছিল। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

পিকনিক
২০১২ সালে আমরা দু’টি  বনভোজন করি। ৫ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের পদ্মা রিসোর্টে আমাদের বনভোজনে ৩৩০ জন অতিথি ছিলেন। সেখানেই বার্ষিক সাধারণ সভায় আমাদের বর্র্তমান কমিটি নির্বাচিত করা হয় কন্ঠভোটে। একই বছর ২৮ ডিসেম্বর গাজীপুর শালবনে অনুষ্ঠিত হয় আমাদের আরেকটি পিকনিক। এতে মোট অতিথির সংখ্যা ছিলো ৪ শ’রও বেশি। এসব বড় বড় আয়োজনে আমাদের অনেক ভুলত্রুটি ছিলো। ২৮ ডিসেম্বরের পিকনিকের এক দিন আগে অফিস এ্যাসাইনমেন্টে আমাকে দেশের বাইরে চলে যেতে হয়। এতে আয়োজনে কিছু সমস্যা হয়েছে। তারপরও তা আপনারা সানন্দে তা গ্রহন করেছেন। আমি এজন্য কৃতজ্ঞ।

প্রকাশনা
আমি দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে রংপুর  বিভাগ সাংবাদিক সমিতির প্রথম  প্রকাশনা গাড়িয়াল(ম্যাগাজিন) বের হয়। গাড়িয়ালের দ্বিতীয়  সংখ্যা আমরা বের করি একই  বছরের ডিসেম্বরে। এটি ছিলো খানিক বড় কলেবরে। এসব  প্রকাশনায় সদস্যদের লেখা, পরিচিতি ও রংপুর বিভাগের  ইতিহাস ঐতিহ্য প্রকাশ পেয়েছে।  প্রকাশনার প্রকাশিত বিজ্ঞাপনই  ছিলো আমাদের সংগঠনের মুল  আয়ের উৎস। গেলো ২ বছরে এসব প্রকাশনা থেকে আমরা আয় করেছি ৭ লাখেরও বেশি টাকা। অবশ্য দু’টি বনভোজন আয়োজনে এর বেশিরভাগই খরচ হয়েছে। এছড়া সংগঠনের সদস্যফরম, খাম, প্যাড এসবও প্রকাশ করা হয়েছে।

তহবিল
রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিগত সময় সদস্যদের কোন চাঁদা দিতে হয়নি।  এদিকে সংগঠনের কোন ব্যবসা বা সম্পত্তি নেই যা থেকে আমরা পরিচালনা খরচ যোগাতে পারি।  তাই সংগঠনের নেতারা বেশিরভাগ সময় নিজেদের অনুদান দিয়ে সাংগাঠনিক কাজ ও কর্র্মসূচী পরিচালনা করেছি। বড় বড় আয়োজন  যেমন পিকনিক কিংবা প্রকাশনার  ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, এলাকার ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান বা প্রকাশনার বিজ্ঞাপন বাবদ অর্র্থ নেয়া হয়েছে। এসব সংরক্ষনের জন্য সংগঠনের একটি হিসাব খোলা হয়েছে, অগ্রণী ব্যাংক জাতীয় প্রেসক্লাব শাখায়। সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও এবং অর্র্থ সম্পাদকের স্বাক্ষরে এই হিসাব পরিচালিত হয়।

সরকারি রেজিষ্ট্রেশন
রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ঢাকার সাংগঠনিক কার্র্যক্রম  জাতীয়ভাবে চালাতে আমাদের একটি সরকারি অনুমোদনের দরকার  ছিলো।এজন্য সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরে আমরা একটি রেজিষ্ট্রেশনের আবেদন করি ২০১২ সালে।  প্রাথমিক ছাড়পত্র পাওয়া  গেছে। বর্র্তমানে তা চুড়ান্ত  অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সংগঠনের স্থায়ী বা ভাড়া কোন  অফিস থাকলে তা অনেক আগেই পাওয়া  সম্ভব হতো।

তথ্যপ্রযুক্তি
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের সংগঠন এখন জাতীয়ভাবে  স্বীকৃত ও প্রশংসিত।  রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতিই একমাত্র সাংবাদিক সংগঠন  যারা তাদের সমস্ত কর্র্মকান্ড  নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.rdja.net) থেকে পরিচালনা করে। এখানে যেমন সদস্যদের অন্তভুর্তি আছে তেমনি তাদের জন্য সমস্ত কর্র্মকান্ড ও পথ নির্দেশনা।একইভাবে এবার সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন ও নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা, মনোনয়নপত্র প্রকাশসহ অনেক গুরুত্বপুর্র্ন কাজও হয়েছে এই ওয়েবসাইট থেকে। বিনা পারিশ্রমিকে ২ বছর ধরে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ এ কাজটি সফলতার সাথে করেছেন, সংগঠনের সদস্য এম আর জান্নাত স্বপন। কুড়িগ্রামের উলিপুরে তার বাড়ি। অনেক অনেক ধন্যবাদ তাকে।

সামাজিক কর্র্মকান্ড
এলাকার মানুষের পাশে দাড়াতে সব সময়ই সোচ্চার আমাদের সংগঠন। গেলো ২ বছর শীতকালে ঢাকা থেকে সংগঠনের উদ্যোগে সংগ্রহ করা বেশিকিছু গরম কাপড় ও কম্বল পাঠানো হয়েছে আমাদের দরিদ্র শীতার্র্ত এলাকাগুলোতে। সাভারের রানা প্লাজা দুর্র্ঘটনার পর গাইবান্ধার ৬ জন অসহায় ক্ষতিগ্রস্থকে চেকের মাধ্যমে ধর্র্মমন্ত্রণালয় থেকে দেড় লাখ টাকার অনুদান নিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন টুকটাক সহযোগিতা অব্যহত ছিলো বছর জুড়েই।

আবাসন
সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য আবাসন প্রকল্প নিয়েও আমরা চিন্তা  ভাবনা শুরু করেছি। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে আশার খবর হলো, আমাদের সংগঠনের পক্ষে করা আবেদনে গাজীপুর জেলা প্রশাসন একটি খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়ার সুপারিশ করেছে। যা এরিমধ্যে ভুমি মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। তবে এই জমি পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে। এবং বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক পরিশ্রম, তদবির ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রিয় সমকর্মীরা
আমি একজন রিপোর্টার। আমাকে আমার দায়িত্ব পালন করতে হয়, প্রতিদিনই। অফিসের এ্যাসাইনমেন্ট বছরে দুই তিনবার বিদেশেও যেতে হয়। তাই সংগঠনে পুরোপুরি মনোযোগ কিংবা সময় কোনটাই আমার পক্ষে বিগত সময় দেয়া সম্ভব হয়নি। ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছুই করতে পারিনি। আমার অক্ষমতা ও অপরাগতার জন্য ক্ষমা চাইছি। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে হয়তো না বুঝে কথা আচরনে অনেককে কষ্ট দিয়েছি। সেজন্য অনুতপ্ত, ব্যথিত। আমায় মার্র্জনা করবেন। সংগঠন পরিচালনার ভার এখন আপনাদের। আজ আপনাদের এই উপস্থিতিই আমার সবচে বড় প্রাপ্তি আর সফলতা। এখন রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতিকে আপনারাই এগিয়ে নেবেন। কর্মী হিসেবে, আমি আছি আপনাদের সাথে।

কেরামত উল্লাহ বিপ্লব
বিজয় হল, বিদ্যুত ভবন, আব্দুল গণি রোড, ঢাকা।
৩০ আগষ্ট, শুক্রবার ২০১৩

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।