ওয়েব নিউজ :  না ফেরার দেশে চলে গেলেন রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা’র সদস্য ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. আল-আমিন (৪৬)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

তার  মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন  রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ঢাকা’র  সভাপতি মুফদি আহমেদ  ও সাধারণ সম্পাদক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব  সহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ। এক শোকবার্তায় গভীর শোক ও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা  জানান। 

দুপুর ১২টায় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আল-মারকাজুল ইসলামীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোড শাখায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর তার লাশ গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে।  ছয় ভাই-বোনের মধ্যে আল-আমিন সবার বড় ছিলেন। তার স্ত্রী ফারজানা আহমেদ কাকন গৃহিণী। মেয়ে সন্ধী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলে অলিন্দ রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যমের একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়ে। আল-আমিনের ছোট ভাই নুরুল আমিন বলেন, ‘বুধবার অফিসে যাওয়ার সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় বসে পড়েন। তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তিনি (আল-আমিন) মনে করেছিলেন এটি গ্যাসজনিত সমস্যা। তবে বৃহস্পতিবার আবার ব্যথা অনুভব করায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয়। ওই দিন বিকেলেই এনজিওগ্রাম করে রিং পরানো হয়। নুরুল আমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ফুসফুসে পানি জমার কারণে রবিবার দুপুর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।’ আল-আমিন ১৯৬৮ সালের ২ জুন গাইবান্ধার ডেবিট কোম্পানিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ছিলেন। দ্য রিপোর্টের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের আগে তিনি প্রাইম খবর ডটকমের প্ল্যানিং এডিটর, ডেইলি সানের জয়েন্ট নিউজ এডিটর ছিলেন। এর আগে ডেইলি স্টারে প্রায় ১৭ বছর কাজ করেন।

অন্যদিকে , মো. আল-আমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

পৃথক শোক বার্তায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর আহমদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজীবুল বশর মাইজভান্ডারী, মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় তারা জানান, আল-আমিন সাহসী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যু সাংবাদিকতা জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।

মো. আল-আমিন : রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ঢাকা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।