ঢাকা     সোমবার   ১৪ জুন ২০২১

রংপুরে ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজহাট রাজবাড়ি

আরডিজেএ ডেস্ক

তাজহাট রাজবাড়ি বা তাজহাট জমিদারবাড়ি বাংলাদেশের রংপুর শহরের অদূরে তাজহাটে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ, যা এখন একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রংপুরের পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান। রাজবাড়িটি রংপুর শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। এতে সময় লেগেছিল প্রায় ১০ বছর। মহারাজা গোপাল রায় ছিলেন হিন্দু এবং পেশায় ছিলেন একজন স্বর্ণকার। কথিত আছে, তার মনমুগ্ধকর ‘তাজ’ বা মুকুটের কারণেই এ এলাকা তাজহাট নামে অভিহিত হয়ে আসছে।
প্রাসাদটি প্রায় ২১০ ফুটের মতো প্রশস্ত ও চার তলার সমান উঁচু। এর গঠনশৈলী প্রাচীন মুঘল স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হয়। যার প্রমাণ মেলে মধ্যভাগে বিশাল একটি গম্বুজ ও দুই পাশে তার ছড়িয়ে যাওয়া দালানগুলোর একটি মসজিদের অবয়ব থেকে। তবে রাজবাড়িটির বাংলাদেশের অন্য সব প্রাসাদের থেকে আলাদা দিক হলো এর সিঁড়িগুলো। এর সর্বমোট ৩১টি সিঁড়ি আছে, যার প্রতিটিই ইতালীয় ঘরানার মার্বেল পাথরে তৈরি। সিঁড়ি থেকে উঠে জাদুঘর পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথরে তৈরি। রাজবাড়ির পেছনের দিকে একটি গুপ্ত সিঁড়ি রয়েছে। এই গুপ্ত সিঁড়ি কোনো একটি সুড়ঙ্গের সাথে যুক্ত, যা সরাসরি ঘাঘট নদীর সাথে যুক্ত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সিঁড়িটি বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কালের বিবর্তনে শ্বেতশুভ্র মার্বেল ও তার সবুজাভ নকশার সুন্দর প্রাসাদ ফোয়ারাটি কিছুটা মলিন হলেও এখনো এর জৌলুশ বুঝা যায়। কথিত আছে রানীর জন্যই বিশেষ করে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রাসাদটি ব্যবহৃত হয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি শাখা বা বেঞ্চ রংপুর হাইকোর্ট হিসেবে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের আঞ্চলিক বেঞ্চ স্থাপন করেন, যার একটি রংপুরে স্থাপিত হয়েছিল। পরে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর এই পদ্ধতি তুলে দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগ প্রাসাদটিকে একটি সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার এ স্থাপত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০০৫ সালে রংপুর জাদুঘরকে স্থানান্তর করে এ প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসে।
মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে জাদুঘরে উঠলেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ, যাতে রয়েছে দশম ও একাদশ শতাব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা বেশ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। এর মধ্যে রয়েছে মুঘল সম্রাট আরওঙ্গজেবের সময়ের কুরআন, মহাভারত ও রামায়ণ। পেছনের ঘরে রয়েছে বেশ কয়েকটি কাল পাথরের হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর প্রতিকৃতি। তবে জাদুঘরের ভেতরে ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রাসাদ চত্বরে রয়েছে বিশাল খালি মাঠ, গাছের সারি এবং প্রাসাদের দুই পাশে রয়েছে দু’টি পুকুর। জাদুঘরে নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে প্রবেশ করা যায়। প্রাসাদ চত্বরে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে চাইলে গাড়ির জন্যও নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়।
সূত্র: নয়া দিগন্ত
প্রকাশ: ২২ মার্চ, ২০২০

সর্বশেষ